তুমি অনুপ্রেরণা, বাংলার ব্লেড রানারকে বললেন শচীন

ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন ভারতের ক্রিকেট ঈশ্বর, তবু যে তিনি আজও ভারতীয় ক্রিড়া জগতের যে কারও কাছে ভগবানই রয়েছেন তা আরও একবার প্রমানিত হল। কলকাতা শহরের ম্যরাথন দৌড়ের ভীড়ের ভেতর থেকে শচীন রমেশ তেন্ডুলকর ঠিক খুঁজে খুঁজে বার করলেন বাংলার ব্লেড রানার বলে পরিচিত আফজল খানকে। গত রবিবার রেড রোডে ম্যারাথন দৌড় শেষে পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে দাঁড়িয়ে নিজেই আজফলের খোঁজ করেন শচীন। আফজলের ডান পা ইস্পাতের তৈরি। সেটা দৌড়ের সময় লক্ষ করেছিলেন তিনি। পুরস্কার মঞ্চে তাকে ডেকে শচীন বলেন, “তুমি একজন অনুপ্রেরণা। দৌড় থামিও না। তোমার সঙ্গে আবার দেখা হবে”। পুরস্কার মঞ্চে এক প্রত্যক্ষদর্শীর কথায়, “ শচীন আফজলের সম্পর্কে নিজেই খোঁজ করতে শুরু করেন। তার সম্পর্কে জানতে চান। তার রোজকার লড়াই, বিভিন্ন ম্যারাথন দৌড়ে অংশ নেওয়া সহ নানান কথা জানতে পারেন তিনি। এরপরই নিজের গার্ডকে ডেকে নিজের ফোনটি তাকে আনতে বলে মঞ্চে ডেকে নেন আফজলকে। তার সঙ্গে সেলফি তোলেন এই ক্রিকেট ঈশ্বর।

এছাড়াও নিজের নিরাপত্তা রক্ষীকে ছবি তুলতে বলে মঞ্চেই আফজলকে জড়িয়ে ধরেন তিনি। তারপরই সেই ছবিটি পোষ্টও করেন টুইটারে। শচীনের দেখা পাওয়ার পর আবেগে ভাসছেন আফজলও। রবিবার কলকাতায় আইডিবিআই আয়োজিত পাঁচ কিমি ম্যারাথনে আওংশ গ্রহন করেছিলেন আফজল খান। তিনি পরে সংবাদমাধ্যমকে জানান, “ শচীন আমাকে মঞ্চে ডেকে পাঠান। আমার নাম ও পরিচয় জিজ্ঞাসা করেন। তারই তিনি আমাকে বলেন, তুমি একজন সত্যিকারের অনুপ্রেরণা। দৌড় চালিয়ে যাও। এভাবে শচীনের মত মানুষকে কাছে পেয়ে ভীষণই ভালো লাগছে”। টুইটারে নিজের হ্যান্ডেলে আফজলের ছবি পোষ্ট করে তাকে অভিনন্দন জানিয়ে তাকে দৃষ্টান্ত বলেও তুলে ধরে একটি টুইট করেন শচীন।

আজফল আরও বলেন, “ আমি মিনিট পনেরো ছিলাম শচীনের সঙ্গে। ছেড়ে আসতে ইচ্ছে করছিল না। কিন্তু উদ্যোক্তাদের কথায় চলে আসতে বাধ্য হই। এতদিন খবরের কাগজ পড়ে জেনে ছিলাম উনি খুব ভালো মানুষ। আজ সেটাই নিজের চোখে দেখলাম”। প্রসঙ্গত কামারহাটির বাসিন্দা আফজলে একটি দুর্ঘটনায় ১৯৯৬ সালের ৯ জানুয়ারি ডান পা বাদ যায়। দক্ষিনেশ্বর স্টেশনে নিজের আত্মীয়দের ট্রেনে তুলে নামতে গয়ে রেল লাইনে পড়ে যান তিনি। প্রানে বেঁচে গেলেও শিয়ালদহের বঙ্গবাসী কলেজের মেধাবী ছাত্র আজফলে ডান পা বাদ দিতে হয়। চিকিৎসার মাধ্যমে ডানপায়ের হাঁটুর নীচের অংশে লাগানো হয় ইস্পাতের পা। অনেকটা ঠিক দক্ষিণ আফ্রিকার ব্লেড রানা অস্কার পিস্টোরিয়াসের মতই। এরপরেই শুরু হয় আফজলের লড়াই। ২০১১ সালে স্কুলে চাকরি পেয়েছেন আফজল। মাধ্যমিক পরীক্ষার পর থেকেই তিনি ম্যারাথনে অংশ নিতে শুরু করেন। তিনি নিজেকে প্রতীবন্ধী মনে করেন। প্রতিবন্ধী শব্দটিতে তার প্রবল আপত্তি রয়েছে।

  • SHARE
    সাংবাদিক, আদ্যন্ত ক্রীড়াপ্রেমী। দ্বিতীয় ডিভিসনে দীর্ঘদিন ক্রিকেট খেলার দরুণ ক্রিকেটের অন্ধ ভক্ত। ব্রায়ান লারা সচিনের অন্ধ ভক্ত। ক্রিকেটের বাইরে ব্রাজিলের সমর্থক এবং নেইমার ও মেসির অন্ধ ভক্ত।

    আরও পড়ুন

    তৃতীয় টি২০তে এই তারকার খেলা নিয়ে সন্দেহ

    পিটিআইয়ের একটি রিপোর্টের মোতাবিক তৃতীয় এবং ফাইনাল ওয়ান ডেতে জসপ্রীত বুমরাহের অংশ নেওয়া এখনও সন্দেহজন অবস্থায় রয়েছে।...

    বিশ্বকাপে ভারতীয় স্পিন বিভাগে কারা খেলবেন মুখ খুলনে নির্বাচক প্রধান

    বিশ্বকাপে ভারতীয় স্পিন বিভাগে কারা খেলবেন মুখ খুলনে নির্বাচক প্রধান
    ২০১৯ বিশ্বকাপের বাকি আর মাত্র দেড় বছর। তার আগে গত ২ বছর ধরেই দুরন্ত ফর্মে রয়েছে ভারতীয়...

    অনুষ্কাকে যাবতীয় কৃতিত্ব দিয়ে অবসর নিয়ে মুখ খুললেন কোহলি

    অনুষ্কাকে যাবতীয় কৃতিত্ব দিয়ে অবসর নিয়ে মুখ খুললেন কোহলি
    তার ব্যাটিং প্রতিভা নিয়ে সন্দেহ নেই কারও। সকলেই একবাক্যে স্বীকার করে নিয়েছেন যে তিনি ব্যাটিংয়ের জিনিয়াস। তামাম...

    প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে সদ্য সমাপ্ত একদিনের সিরিজে যে যে রেকর্ড গড়লেন ভারত অধিনায়ক বিরাট

    তার শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নিয়েছে ক্রিকেট বিশ্বের সকলেই। বিশ্বের সর্বকালের সেরা একদিনের ক্রিকেটার হিসেবে তাকে মেনেও নিয়েছেন সকলে।...

    আইপিএলের প্রথম ম্যাচে খেলতে পারবেন না এই দুই অস্ট্রেলীয়

    আর মাত্র দেড় মাস বাকি আইপিএল শুরুর। এই মুহুর্তে স্ট্রাটেজি বানাতে শুরু করে দিয়েছে সমস্ত ফ্রেঞ্চাইজিই। কিন্তু...