এটা প্রায় এক যগ কেটে গেছে যখন সৌরভ এবং চ্যাপেল কান্ড নিয়ে সরগরম ছিল ভারতীয় ক্রিকেট। কিন্তু সম্ভবত সৌরভ গাঙ্গুলী এটা থেকে এখনও বেরতে পারেন নি। প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক ক্রিকেট পাগল এই দেশের অন্যতম পছন্দের ক্রিকেটার ছিলেন। এবং অধিনায়ক ও ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজের উত্তরাধিকার কায়েম করেছিলেন। যে সময় সৌরভ অধিনায়কত্ব হাতে পান তখন ভারতীয় ক্রিকেটে বেশ টালমাটাল অবস্থায় ছিল ২০০০ সালে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের ধাক্কায়। যদিও গাঙ্গুলী ভারতীয় দলকে একটি শক্তিশালী দল হিসেবে বদলে ফেলতে খুব বেশি সময় নেন নি। তিনি চ্যাম্পিয়ন ট্রফির ফাইনালে জেতার এবং ২০০৩ বিশ্বকাপের ফাইনালেও ভারতকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তার অধিনায়কত্বেই ভারত অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে একটি টেস্ট সিরিজ ড্র করেন এবং পাকিস্থানের বিরুদ্ধে একটি টেস্ট সিরিজ জেতে। গাঙ্গুলী খুব তাড়াতাড়িই ভারতের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক হিসেবে পরিগনিত হয়েছিলেন। বাংলার এই তারকার তার কেরিয়ারের শেষ কিছু বছর ভারতের এক প্রমুখ ব্যক্তি হিসেবে থেকে যাওয়া নিশ্চিত ছিল। কিন্তু তার পরে যা ঘটা তা বেশ অভাবনীয়ই ছিল। ২০০৫এ তৎকালীন ভারতের হেড কোচ গ্রেগ চ্যাপেল গাঙ্গুলীর পতন ঘটাতে নেতৃত্ব দেন। তিনি কোনো নির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই যে শুধু মাত্র তার অধিনায়কত্ব হারিয়েছিলেন তাই নয়, তাকে দল থেকেও বাদ দেওয়া হয়েছিল। তারপরে এই ব্যাটিং কিংবদন্তী না শুধু দলে তার প্রত্যাবর্তন ঘটিয়েছিলেন বরং তিনি নিজের টার্মেই এই খেলা থেকে অবসরও নেন। যদিও চ্যাপেলের এই কান্ড তার মনে এখনও তাজা রয়েছে। টাইমস অফ ইন্ডিয়ায় তার সাম্প্রতিক কলামে গাঙ্গুলী এই দুর্ভাগ্যজনক সময় নিয়ে লিখেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে তিনি ভারতীয় দলের সফল হেড কোচ জন রাইটের জায়গায় চ্যাপেলের নাম সাজেস্ট করেছিলেন।

এই প্রাক্তন ভারতীয় ব্যাটসম্যান আরও জানিয়েছেন যে অনেকেই তাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন যে চ্যাপেলের নাম কোচ হিসেবে না বিবেচনা করতে। ওই কলামে গাঙ্গুলী লেখেন, “ ২০০৪ সালে যখন আমরা দেশে ফিরি তখন আমরা আলোচনা করতে বসি যে জন রাইটের সাফল্যকে কে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন, ওর নাম আমার মাথাতেই প্রথম আসে। আমি ভেবেছিলাম চ্যালেঞ্জারের অবস্থান থেকে আমাদের এক নম্বরে নিয়ে যেতে চ্যাপেলই সেরা ব্যক্তি। যখন আমরা নতুন কোচ খুঁজছিলাম তখনই আমি মিস্টার ডালমিয়াকে আমার ব্যক্তিগত পছন্দের কথা জানাই। আমার এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কিছু মানুষ আমাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন। সুনীল গাভাস্কার তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন। গাভাস্কার আমাকে বলেছিলেন, “ সৌরভ এটা নিয়ে ভেবে দেখো। ওকে সঙ্গে নিয়ে সম্ভবত তোমার দল চালানো মুশকিল হবে। ওর অতীতের কোচিং রেকর্ড দারুণ কিছু নয়”। তিনি আরও লেখেন, “ মিস্টার ডালমিয়াও একদিন সকালে আমাকে ডাকেন, এবং আমাকে ওর বাড়িতে যেতে বলেন একটু আর্জেন্ট আলোচনার জন্য। এবং তার বিশ্বাস আমার সঙ্গে শেয়ার করে জানিয়েছিলেন যে এমনকী ওর ভাইও মনে করেন যে গ্রেগ সম্ভবত ভারতের জন্য সঠিক পছন্দ হতে পারেন না। হ্যাঁ আমি এই সমস্ত সতর্কতাকে ইগনোর করার সিদ্ধান্ত নিই, এবং আমার ইনস্টিঙ্কটকেই ফলো করি। আর বাকিটা তাদের কথা মতই ইতিহাস। কিন্তু তখন ওটাই ছিল জীবন। কিছু চিত্রনাট্য আপনার পথেই চলে যেমন আমার অস্ট্রেলিয়া সফর, এবং কিছু আপনার নির্দেশিত পথে চলে না যেমন গ্রেগের অধ্যায়। আমি দেশটাকে জিতেছিলাম কিন্তু তার একজন নাগরিককে জিততে পারি নি”।

গাঙ্গুলী আরো তার কেরিয়ারের কঠিন সময় নিয়েও কথা বলেছেন। ২০০৫ বছরটাকে অভিহিত করেছেন ‘সবচেয়ে ঘৃণ্য অধ্যায়’ হিসেবে। তিনি অধিনায়ক এবং প্লেয়ার হিসেবে কোনো কারণ ছাড়াই বাদ পড়াকে হতাশাজনক বলে ব্যক্ত করেছেন। তিনি তার কলামে লিখেছেন, “ এই ২০০৫ সালটা আমার জীবনের সবচেয়ে ঘৃন্য অধ্যায়। না শুধু আমার অধিনায়কত্ব হঠাৎ করেই কেড়ে নেওয়া হয়েছিল কোনও কারণ ছাড়াই, এবং প্লেয়ার হিসেবেও বাদ দেওয়া হয়েছিল। আমি ভীষণই রেগে গিয়েছিলাম যেখন এটা লিখতে গিয়েও রাগছি। যা ঘটেছিল তা অভাবনীয়। অগ্রহণযোগ্য। এবং ক্ষমার অযোগ্য। ইতিহাসে এমন একটি উদাহরণ খুঁজে পাওয়া যায়না যেখানে বিজয়ী অধিনায়ককে এমন অযৌক্তিকভাবে বাদ দেওয়া হয়, এবং মাত্র শেষ সিরিজে সেঞ্চুরি করার পরও। ভারতীয় ক্রিকেটে এমন উদাহরণ আর একটাও নেই, এবং আমার সন্দেহ এরকমটা ভবিষ্যতেও হবে কিনা। সুতরাং মিস্টার গ্রেগরি চ্যাপেল এবং কিরণ মোরের নেতৃত্বাধীন নির্বাচক কমিটি প্রকৃতপক্ষেই আমাকে আগস্ট কোম্পানিতে ফেলে দিয়েছিলেন।” প্রিন্স অফ ক্যালকাটা আরও বলেন যে ভক্তদের সমর্থনই তাকে তার ওই কঠিন সময়ে মনোবল যুগিয়েছিল। এব্যাপারে তিনি লেখেন, “ একটা ব্যাপার যা আমাকে আঘাত করেছিল যে সারা দেশ জুড়ে আমার ভক্তদের সংখ্যা সেইসময় ক্রমাগত বাড়ছিল। দেখুন আমি পাঁচ বছর ধরে ভারতের অধিনায়ক ছিলাম। আমি তখন অন্যতম তারকা। ভারতের জনপ্রিয় মুখ। ইতিমধ্যেই আমার একটি উল্লেখযোগ্য ফ্যানবেস ছিল। কিন্তু আমার এই খারাপ সময়ের ফেজ হঠাৎ করেই আমাকে জনতার খুব প্রিয় করে তুলেছিল। এমনকী মিডিয়াতেও, যে মানুষগুলো নিয়ম করে আমার সমালোচনা করতেন তারাও হঠাৎ করেই নরম হয়ে গেলেন। হঠাৎ করেই মহারাজ থেকে আমার জায়গা হল দলিতদের র্যা ঙ্কে”। এই প্রাক্তন অধিনায়ক প্রায় ২০০০০আন্তর্জাতিক রান করেছেন সেই সঙ্গে ৩৮টি সেঞ্চুরি এবং ১০৫টি হাফ সেঞ্চুরিও রয়েছে তার। সেই সঙ্গে তার গ্রহন যোগ্য মিডিয়াম পেস বোলিংয়ে তিনি ১৩২টি উইকেটেও নিয়েছেন। এই মুহুর্তে তিনি ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করছেন।

  • SHARE
    সাংবাদিক, আদ্যন্ত ক্রীড়াপ্রেমী। ব্রায়ান লারা সচিনের ভক্ত। ক্রিকেটের বাইরে ব্রাজিলের সমর্থক এবং নেইমার ও মেসির অন্ধ ভক্ত।

    আরও পড়ুন

    পার্থিব প্যাটেল বললেন এই কথা, যদি এমনটা হতো ধোনি পেতেন না ভারতীয় দলে জায়গা …

    টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়ে নিলেও, ODI ও টি-২০ ক্রিকেট এখনও খেলে চলেছেন মাহি। আর সেই কারণেই...

    ইতিহাসের পাতা থেকে : ২০১৩য় আজকের দিনেই মহেন্দ্র সিং ধোনি ভারতকে এনে দিয়েছিলেন এই গৌরব

    ইতিহাসের পাতা থেক: ২০১৩য় আজকের দিনেই মহেন্দ্র সিং ধোনি ভারতকে এনে দিয়েছিলেন এই গৌরব
    ভারতীয় ক্রিকেট দলের জন্য আজকের দিনটি বিশেষ তাৎপর্য পূর্ণ। আজকের দিনেই অর্থাৎ ২৩ জুন পাঁচ বছর আগে...

    ভিডিয়ো: আপনে মোহল্লে মে ফির রেশমা আয়ি গানে শ্রেয়স আইয়ার, পৃথ্বী শ সমেত ভারতীয় খেলোয়াড়রা ইংল্যান্ডের গলিতে করল ডান্স

    ভিডিয়ো: আপনে মোহল্লে মে ফির রেশমা আয়ি গানে শ্রেয়স আইয়ার, পৃথ্বী শ সমেত ভারতীয় খেলোয়াড়রা ইংল্যান্ডের গলিতে করল ডান্স
    ভারতীয় এ দল এই মুহুর্তে ইংল্যান্ড সফরে রয়েছে। ভারতীয় সিনিয়র দল ইংল্যান্ড সফরে আসার আগে ভারতীয় এ...

    ইংল্যান্ডে অস্ট্রেলিয়ার হালত দেখে ঘুম ভাঙল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার, স্মিথ ওয়ার্নার পেলেন ফেরার অনুমতি

    ইংল্যান্ডে অস্ট্রেলিয়ার হালত দেখে ঘুম ভাঙল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার, স্মিথ ওয়ার্নার পেলেন ফেরার অনুমতি
    অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটের হালত এই সময় খুব একটা ভাল নয়। একদিকে যেখানে দলের তারকা ব্যাটসম্যান স্টিভ স্মিথ এবং...

    বিরাট জানালেন এই দুই খেলোয়াড়ের উপর সবচেয়ে বেশি নির্ভর করেই ইংল্যান্ডে জিতবেন সিরিজ

    বিরাট জানালেন এই দুই খেলোয়াড়ের উপর সবচেয়ে বেশি নির্ভর করেই ইংল্যান্ডে জিতবেন সিরিজ
    ভারতীয় দলকে আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২৭ এবং ২৯ জুন দুটি টি২০ ম্যাচের সিরিজ খেলতে হবে। আর এর পর...