ক্রিকেট বাদ দিয়ে এ কিসে মনযোগী হতে বললেন শচীন টেন্ডুলকার! 1

রাজসিংহ দুঙ্গারপুর ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সাবেক প্রধান, পৃথিবী ছেড়ে গেছেন আরো আট বছর আগে ২০০৯ সালে। ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম সংস্কারক ছিলেন রাজসিংহ দুঙ্গারপুর। এই ক্রিকেট সংস্করকের ভক্ত আজাহার উদ্দিন হতে শচিন টেন্ডুলকার। রাজসিংহ দুঙ্গারপুরের মৃত্যুর পরে ভারতীয় ক্রিকেটের জীবন্ত কিংবদন্তী শচিন টেন্ডুলকার প্রস্তাব করেছিলেন তাঁর নামে ক্রিকেট ক্লাব অব ইন্ডিয়ার (সিসিআই) প্রধান ফটকের নামকরণ করার। অবশেষে কিংবদন্তি এই ক্রিকেট সংস্কারকের মৃত্যুর আট বছর পর শচীনের প্রস্তাবটা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হল। আর সেই ক্রিকেট ক্লাব অব ইন্ডিয়ার (সিসিআই) প্রধান ফটকের প্রবেশদ্বারের নামকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শচিন টেন্ডুলকার। বরাবরের মতই শচিন টেন্ডুলকার বিসিসিআইর সাবেক সভাপতি রাজসিংহ দুঙ্গারপুরের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। রেকর্ডের রবপুত্র শচিন টেন্ডুলকার শ্রদ্ধার সাথে রাজসিংহ গঙ্গারপুরের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘রাজ ভাই আমাদের সবার গুরু ছিলেন। ক্রিকেট ক্লাব অব ইন্ডিয়ার (সিসিআই) প্রাণ ছিলেন তিনি। তাঁর নামে গেটের নামকরণ করাটাই তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর সেরা উপায়। কারণ, এই দরজা দিয়েই সব ক্রিকেটার মাঠে প্রবেশ করে।’

রাজসিংহ গঙ্গারপুর ছিলেন ক্রিকেটারদের জন্য অন্ত:প্রাণ একজন সংগঠক। বিভিন্ন ভাবে সাহায্য করেছেন ক্রিকেটারদের। ব্যতিক্রম ছিলেন না শচীনের ক্ষেত্রেও। ক্যারিয়ারের শুরুর দিনগুলোতে শচীনকে নানাভাবে সাহায্য করতেন দুঙ্গারপুর। স্পনসর জোগাড় করে দিয়েছেন, এমনকি বিদেশ সফরের সময়ও সাহায্য করেছেন। আজ এত বছর পরেও সেগুলো ভোলেননি টেন্ডুলকার। সেই অবদান যে ভুলে যাওয়ার মতো নয়। এই ক্রিকেট অন্ত:প্রাণ সংগঠক চাইতেন খেলোয়াররা যেন ঠিক ভাবে পড়াশুনা করেও নিজেদের শিক্ষিত করে তোলে। ১৯৮৯ সালের নভেম্বরে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল টেন্ডুলকারের। তবে টেন্ডুলকারের অভিষেক হতে পারত সে বছরের গোড়ার দিকেই। আগের মৌসুমে রঞ্জি ট্রফিতে দুর্দান্ত খেলা টেন্ডুলকার অপেক্ষায় ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই ডাক পাওয়ার। কিন্তু দুঙ্গারপুরের কারণেই নাকি সেটি হয়নি। স্নেহপ্রবণ রাজসিংহ দুঙ্গারপুর চেয়েছিলেন শচীন টেন্ডুলকার যেন তাঁর মাধ্যমিক পরীক্ষাটা মনোযোগের সঙ্গেই দেয়।শচীন সেই স্মৃতি স্মরণ করে বলেন , ‘রঞ্জি সেমিফাইনালে দিল্লির বিপক্ষে খেলার সময় রাজ ভাই ওয়াংখেড়েতে আসেন। তিনি আমাকে বলেছিলেন, “আমি তোমাকে একটা কথা বলে রাখছি, তুমি ওয়েস্ট ইন্ডিজে যাচ্ছ না। এই ম্যাচে মন দাও। ফাইনালে যদি খেলতে পারো তো সেখানে রান কোরো। তারপর সোজা এসএসসিতে মনোযোগ দেবে।”

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে না যেতে পারলেও আন্তর্জাতিক অভিষেকটা যে লিটল মাস্টারের জন্য ‘সময়ের ব্যাপার’ ছিল, সেটি বুঝতে পেরেছিলেন ঝানু এই সংগঠক। সে সময় তিনি টেন্ডুলকারকে বলেছিলেন, ‘এভাবে খেলতে থাকলে তুমি শিগগিরই সুযোগ পাবে।’ এরপরে ১৬ বছরের শচীনকে তিনি নামিয়েছিলেন ইমরান খান, ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনিসদের বিপক্ষে। ১৯৯০ সালে কপিল দেব, কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্ত, রবি শাস্ত্রীদের বাদ দিয়ে ভারতীয় দলের অধিনায়ক বানিয়েছিলেন মোহাম্মদ আজহারউদ্দিনকে। সে সময় আজহারকে অধিনায়কত্বের প্রস্তাব দিয়েছিলেন সেই বিখ্যাত উক্তিটি করে, ‘মিয়াঁ, কাপ্তান বানোগে? ভারতীয় ক্রিকেট আজ যে জায়গায়, সেখানে দুঙ্গারপুরের অবদান অস্বীকার করার যে কোনো উপায়ই নেই। একজন সত্যিকারের সংগঠককে যথাযথ সম্মানই দিয়েছে বিসিসিআই।

Nazmus Sajid

Sports Fanatic!

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *