ইয়ো-ইয়ো টেস্টে কিভাবে পাশ করলন নেহরা, সত্য়িটা সেহওয়াগ জানিয়ে দিলেন 1

ফাস্ট বোলার হয়েও আটত্রিশ বছর বয়সে ভারতীয় দলে কামব্য়াক করছেন আশিস নেহরা। এই বয়সে ফাস্ট বোলাররা ক্রিকেট জীবনে পাওয়া চোট-আঘাতে জর্জরিত শরীরটাকে বিশ্রাম দেন, সেখানে দিল্লির এই পেস বোলার টিম ইন্ডিয়ার জার্সি আরও একবার গায়ে চাপাতে উদ্য়ত। এখন তো আবার ভারতীয় দলে সুযোগ পেতে হলে ফিটনেস টেস্টের সর্বোচ্চ স্তর ইয়ো-ইয়ো টেস্টে পাশ করে আসতে হয়। ফলে ভারতীয় দলে আশিস নেহরার জায়গা করে নেওয়া সত্য়িই অবাক করে দেওয়ার মতো। কি করে এতো ফিট নেহরা? ভারতের প্রাক্তন ওপেনার বীরেন্দ্র সেহওয়াগ এর আসল রহস্য়টা খুঁজে পেয়েছেন। আর সেটা সবার সামনেও এনেছেন। নজফগড়ের নবাব বলছেন, আশিস নেহরা যখন প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে বাইরে থাকেন, তখন নিজেকে কঠোর পরিশ্রমের মধ্য়ে নিয়োজিত রাখেন।
একটি বেসরকারি টিভি চ্য়ানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বীরু বলেন, ”নেহরা যখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলে না, সেই সময় প্রতিদিন আটঘণ্টা করে জিমে কাটায় (চার ঘণ্টা করে দু’টি সেশন)। এই বয়সে ওর ফিটনেসের চাবিকাঠি ওটাই। ও যদি আজ ভারতের দলে টি-২০ ম্য়াচ খেলার জন্য় সুযোগ পেয়েছে, তার মানে এটাই, ও ইয়ো-ইয়ো টেস্টে পাশ করেছে। ইয়ো-ইয়ো টেস্টে ও প্রায় বিরাট কোহলিকে ছুঁয়েই ফেলেছিল ১৭-১৮ স্কোর করে।”
অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টি-২০ সিরিজে ভারতের এই অভিজ্ঞ বাঁ-হাতি পেস বোলার ভারতীয় দলে সুযোগ পাওয়া বেশ আলোচনা চলছে ক্রিকেট মহলে। ক্রিকেট ফ্য়ানেরাও অবাক হয়ে গিয়েছেন। যুবরাজ সিং ও সুরেশ রায়নার মতো সিনিয়র ক্রিকেটাররা ইয়ো-ইয়ো টেস্টে ফেল করলেও, নেহরা কি করে এত স্কোর করে ইয়ো-ইয়ো টেস্টে উতরে গেলেন। বীরু বলছেন ফাস্ট বোলার হওয়াটা নেহরার উপকারে লেগেছে এক্ষেত্রে। ভারতের এই প্রাক্তন ডানহাতি ওপেনার বলেন, ”নেহরা ফাস্ট বোলার। দৌড়ানো নিয়ে ওর কোনও সমস্য়াই ছিল না। ফলে ইয়ো-ইয়ো টেস্টে পাশ করতে ওর পক্ষে সসম্য়া হওয়ার কথা ছিল না। নেহরা সবসময় ফিট থাকতে ভালোবাসে। ও সারাক্ষণ জিমে কাটায়। এমনটা নয় যে ও জোর করে এটা করে যায়। আসলে ও দৌড়তে ভালোবাসে, সাঁতার কাটতে ভালোবাসে। ইয়ো-ইয়ো টেস্টে কুড়ি মিটার দূরত্ব সহযেই পার করে দেবেই। তাছাড়া লম্বা হওয়ার বাড়তি একটা সুবিধা থাকে। ও ছ’ফুটের ওপর লম্বা। আর ও লম্বা লম্বা পা ফেলে দৌড়োয়।”
উল্লেখ্য়, ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাস এলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ঊনিশ বছর পূর্ণ করবেন নেহরা। ১৯৯৯ সাল থেকে চলা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কেরিয়ারের পুরো পথটাই চোট-আঘাত নিয়ে চলেছেন। বারোবার অপারেশন টেবিলে যেতে হয়েছে তাঁকে সেরে ওঠার জন্য়। টেস্টে খেলা ২০০৪ সালে ছেড়ে দিয়েছেন। ওয়ান-ডে ক্রিকেটে খেলা ২০১১ সালে ছাড়ার পর শুধুমাত্র টি-২০ ক্রিকেট খেলে যাচ্ছেন। যদিও টেস্ট ও ওয়ান-ডে ক্রিকেট থেকে সরকারিভাবে অবসর নেননি তিনি এখনও পর্যন্ত। গত কয়েকদিন আগে একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্য়মকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেহরা নিজেও স্বীকার করে নিয়েছেন চার ওভারের মতো বল করার স্ট্য়ামিনা তাঁর মধ্য়ে রয়েছে এবং এই কারণে তাঁর বলের গতিতে কোনও রকম কাটছাঁট করতে চান না তিনি। এই বয়সেও দিল্লির এই অভিজ্ঞ পেস বোলার ১৪০ কিলোমিটার গতিতে বল করে যান ধারাবাহিকভাবে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *