আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে কেঁপে উঠলো ক্রিকেট স্টেডিয়াম, নিহত দুই ও আহত পাঁচ 1

পাশের রাষ্ট্র পাকিস্তান যখন সন্ত্রাসবাদের কালো ছায়াকে দূরে সরিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)-কে রাজি করাতে ব্য়স্ত যে পাক ভূখণ্ড এখন নিরাপদ। নিশ্চিন্তে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফের শুরু করা যায়, ঠিক তখনই পাশের রাষ্ট্রের ক্রিকেট স্টেডিয়াম সন্ত্রাসের তীব্র শব্দে কেঁপে উঠল। পাশের দেশ বলতে আফগানিস্তান। আর এই সন্ত্রাসবাদী হামলা ঘটেছে খোদ দেশের রাজধানী অঞ্চলে। বুধবার (১৩ সেপ্টেম্বর) আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে এক আত্মঘাতী বোমারু নিজেকে বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেয়। ঘটনাটি ঘটেছে কাবুল স্টেডিয়ামের কাছে একটি চেক পয়েন্টে। এই বিস্ফোরণে দুই পুলিশ অফিসার নিহত হয়েছেন। আহতের সংখ্য়া পাঁচ। স্থানীয় পুলিশ সূত্রে এই খবর জানা গিয়েছে।

আত্মঘাতী বোমারু স্টেডিয়ামে ঢুকতে বাধা পেলে স্টেডিয়ামের বাইরেই নিজেকে উড়িয়ে দেয়। সেই সময় স্টেডিয়ামের ভেতরে ম্য়াচ চলছিল। দর্শক ও ক্রিকেটাররা সকলেই নিরাপদে আছেন। কাবুল পুলিশের মুখপাত্র বশির মুজাহিদ একটি সংবাদসংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, আত্মঘাতী বোমারুর লক্ষ্য় ছিল স্টেডিয়ামের ভেতর ঢুকে মাঠে উপস্থিত দর্শকদেরকে নিশানা করা। কিন্তু, নিরাপত্তারক্ষীরা নিজের জীবন দিয়ে সেই হামলা রুখে দিয়েছেন। নাহলে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটত। ঘটনার পর বেশ কয়েকটি অ্য়াম্বুলেন্স এসে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় এবং আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

তালিবানী সন্ত্রাসবাদের জমানা কাটিয়ে উঠলেও হিংসাদীর্ণ আফগানিস্তান এখন অভ্য়ন্তরীণ সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে লড়ছে। সন্ত্রাসবাদের দুর্দিন কাটিয়ে উঠতে ফুটবল ও ক্রিকেটকে বেছে নিয়েছেন বর্তমান আফগান যুব সমাজ। ক্রিকেট বিশ্বে নিজেদের আলাদা নাম করার জন্য় আফগান ক্রিকেট এখন লড়াই করে চলেছে। আন্তর্জাতিক স্তরে যখনই সুযোগ পেয়েছে, আফগান ক্রিকেট টিম তাদের ক্রিকেট প্রতিভা দেখিয়ে নজর কেড়েছে। রশিদ খান ও মহম্মদ নবি এখন আন্তর্জাতিক স্তরে পরিচিত নাম। আফগানিস্তানে ক্রিকেটকে প্রসারিত করতে এবং দেশের যুবসমাজকে ক্রিকেট খেলায় টেনে আনতে দুজনে বেশ উৎসাহীভাবে কাজ করে চলেছেন।

এখানে উল্লেখ্য়, পাকিস্তানের মাটিকে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে বহুদিন ধরে ব্য়বহার করা হচ্ছে। পাকিস্তান সংলগ্ন আফগান সীমান্তে এখনও সন্ত্রাসবাদীরা সক্রিয়। ২০০৯ সালে সফররত শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট টিমের ওপর নিন্দনীয় সন্ত্রাসবাদী হামলার পর থেকে পাকিস্তানের মাটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বঞ্চিত। দীর্ঘ আট বছর আরব আমির শাহির রাজধানী দুবাইতে তাদের হোম সিরিজ খেলতে হচ্ছে পাক ক্রিকেট টিমকে। গত জুনে আইসিসি চ্য়াম্পিয়ন্স ট্রফি জেতার পর বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে গ্রিন সিগনাল দিয়েছে তাদের দেশের মাটিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরানোর ব্য়াপারে। কিন্তু, তার জন্য় নির্বিঘ্নে ইন্ডিপেন্ডেস কাপ আয়োজন করতে হবে। বিশ্ব একাদশের বিরুদ্ধে লাহোরের গদ্দাফি স্টেডিয়ামে তিনটি টি-২০ ম্য়াচ খেলছে পাকিস্তান টিম। ১২ তারিখ প্রথম ম্য়াচ খেলা হয়েছে।  বুধবার দ্বিতীয় ম্য়াচের আগে পাশের দেশে ক্রিকেট স্টেডিয়াম সন্ত্রাসবাদের নিশানায় আসার জের পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরানো শুরু করার প্রক্রিয়ার ওপরেও পড়তে পারে বলে বিশষজ্ঞ মহলের ধারনা। ১৫ তারিখ সিরিজের শেষ ম্য়াচটি খেলা হবে। বিশ্ব একদাশে কোনও ভারতীয় ক্রিকেটার নেই।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *