আইপিএল ২০১৮: ম্যাচ ৭, সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ বনাম মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স—স্ট্যাটিস্টিক্যাল হাইলাইটস

এক উইকেটে মুম্বাই ইন্ডীয়ান্সকে হারিয়ে ঘরের মাঠে দ্বিতীয় জয় তুলে নিল কেন উইলিয়ামসনের নেতৃত্বাধীন হায়দ্রাবাদ দল। রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে মূলত হায়দ্রাবাদের বোলারদের সামনে দাঁড়াতেই পারেন নি মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ব্যাটসম্যানেরা। তাদের ইনিংসের শেষ ১৬ বলে মাত্র ১৪ রানই যোগ করতে পারেন তারা। নির্ধারিত ২০ ওভারে তারা ৮ উইকেটে বিনিময়ে করে ১৪৭ রান। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ঋদ্ধিমান সাহা এবং শিখর ধবনের হায়দ্রাবাদ ওপেনিং জুটি ৬.2 ওভারে তোলে ৬২ রান। কিন্তু তারপরেই ধস নামে হায়দ্রাবাদের ইনিংসে। সৌজন্যে মুম্বাইয়ের তরুণ স্পিনার ময়ঙ্ক মারকান্ডে। মারকান্ডে চার ওভার বল করে হায়দ্রাবাদের ৪টি উইকেট তুলে নেন। শেষ তিন ওভারে হায়দ্রাবাদের লক্ষ্যমাত্রা এসে দাঁড়ায় ১৫ রানে। কিন্তু এখান থেকেই মুম্বাইকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে বোলাররা। শেষ নটি মাত্র ১ রান দিয়ে তারা তুলে নেয় হায়দ্রাবাদের ৪টি উইকেট। কিন্তু শেষ ওভারে দীপক হুডা এবং বিলি স্ট্যানলেক মাঠা ঠান্ডা রেখে ১১ রান তুলে নিয়ে হায়দ্রাবাদকে জয় এনে দেন। আসুন একবার দেখে নেওয়া যাক এই ম্যাচের স্ট্যাটিস্টিক্যাল রেকর্ড।

আইপিএল ২০১৮: ম্যাচ ৭, সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ বনাম মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স—স্ট্যাটিস্টিক্যাল হাইলাইটস 1

রুদ্ধশ্বাস ম্যাচের পরিসংখ্যানগত রেকর্ড:

১— হায়দ্রাবাদের এক উইকেটে জয় আইপিএলে যে কোনও দলের এই ব্যাবধানের জয় হিসেবে তৃতীয়। কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবকে ২০১৫য় কেকেআর এই ব্যবধানে হারিয়েছিল, এবং এই মরশুমের প্রথম ম্যাচেই সিএসকেও মুম্বাইকে একই রানেই হারিয়েছিল।

১— এই ম্যাচের ২০ তম ওভারে দীপক হুডার মারা ছয়টি হায়দ্রাবাদ ইনিংসের প্রথম এবং একমাত্র ছয়। এই ম্যাচে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স তাদের ইনিংসে মোটী ৬টি ছয় মারেন যার মধ্যে পাওয়ার প্লেতে তিনটি ছয় মারে তারা।

৪— হায়দ্রাবাদ ইনিংসের শেষ বলে মারা চারটি হায়দ্রাবাদের ১১ নম্বর ব্যাটসম্যান বিলি স্ট্যানিলেকের তার কেরিয়ারে মারা একমাত্র চার। এর আগে ক্রিকেটের যে কোনও ফর্ম্যাটে এই ক্রিকেটার ৪৩ বলে ১১ রান করেছিলেন।

আইপিএল ২০১৮: ম্যাচ ৭, সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ বনাম মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স—স্ট্যাটিস্টিক্যাল হাইলাইটস 2

৪/২৩— মুম্বাইয়ের তরুণ স্পিনার ময়ঙ্ক মারকান্ডের বোলিং গড় ৪/২৩ আইপিএলে হায়দ্রাবাদের ঘরের মাঠে করা কোনও বোলারের দ্বিতীয় সেরা বোলিং গড়। এর আগে ২০১৩য় রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে জেমস ফকনারের হায়দ্রাবাদের বিপক্ষে বোলিং গড় ছিল ৫/১৬। এ ছাড়াই বিজিত দলের কোনও বোলারের বোলিং গড় হিসেবে আইপিএলে মারকান্ডের এই বোলিং ফিগার পঞ্চম স্থানে রয়েছে।

৭— আইপিএলের পরপর দুটি ম্যাচে এত সংখ্যক উইকেট নিয়েছেন মারকান্ডে। তিনি এই মরশুমের প্রথম ম্যাচে সিএসকের বিরুদ্ধে ৩ উইকেট নিয়েছিলেন। এর আগে একমাত্র বোলার অ্যাডাম জাম্পাই আইপিএলের প্রথম দুটি ম্যাচে ৮ উইকেট নিয়েছিলেন। অর্থাৎ এক মাত্র অ্যাডাম জাম্পাই প্রথম দুটি ম্যাচে মারকান্ডের চেয়ে বেশি উইকেট নেন।

আইপিএল ২০১৮: ম্যাচ ৭, সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ বনাম মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স—স্ট্যাটিস্টিক্যাল হাইলাইটস 3

১৮— এত সংখ্যক ডট বল করেন হায়দ্রাবাদের স্পিনার রশিদ খান। যা আইপিএলের কোনও ম্যাচে কোনও বোলারের করা যুগ্মভাবে সর্বোচ্চ ডট বলের সংখ্যা। রশিদের আগে ২০১৩য় এই একই মাঠে হায়দ্রাবাদের বোলার অমিত মিশ্রা রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে ১৮টি ডট বল করেছিলেন। এছাড়াও বর্তমান পাঞ্জাবের অধিনায়ক রবি চন্দ্রন অশ্বিনও পরপর আলাদা দুটি ম্যাচে ১৮টি করে ডট বল করেছিলেন।

২০ বছর ১৫২ দিন— মুম্বাইয়ের স্পিনার ময়ঙ্ক মারকান্ডে ২০ বছর ১৫২ দিনে চার উইকেট নেওয়া আইপিএলের তৃতীয় তরুণ বোলার। এর আগে পবন নেগি এবং মিচেল মার্শ ৪টি করে উইকেট নিয়েছিলেন তাদের ২০বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেই।

suvendu debnath

কবি, সাংবাদিক এবং গদ্যকার। শচীন তেন্ডুলকর, ব্রায়ান লারার অন্ধ ভক্ত। ক্রিকেটের...

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *