আইপিএলে এই বোলারের সঙ্গে জুটি বাঁধা নিয়ে আশাবাদী যজুবেন্দ্র চহেল

আইপিএলে এই বোলারের সঙ্গে জুটি বাঁধা নিয়ে আশাবাদী যজুবেন্দ্র চহেল 1

শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত নিদাহাস ত্রিদেশীয় সিরিজে ভারতকে জেতানোর ব্যাপারে বলারদের মধ্যে তিনি প্রধান ভুমিকায় ছিলেন। বিপক্ষে শ্রীলঙ্কা হোক বা বাংলাদেশ পাওয়ার প্লেতে বিপক্ষকে সবসময় চাপে রেখেছিল তার অফস্পিন। তিনি ভারতীয় দলের নতুন স্পিনার ওয়াশিংটন সুন্দর। এ ব্যাপারের আইপিএলে তিনি জায়গা পেয়েছেন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু দলে। জাতীয় দলে তার অধিনায়কেই এবার আইপিএলেও পাবে তিনি অধিনায়ক হিসেবে। আরবিসির আরেক বোলার তথা ভারতীয় দলের এই মুহুর্তের সফলতম স্পিনার যজুবেন্দ্র চহেল আগেই বলেছিলেন যে ওয়াশিংটনের মত স্পিনারকে পেয়ে পাওয়ার প্লে তে বিরাটের হাতে অনেক বেশি বিকল্প বাড়বে। আইপিএলের প্রথম ম্যাচেই কলকাতায় নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে খেলবে ব্যাঙ্গালুরু। এই মুহুর্তে প্রস্তুতিও ভালোমতই শুরু করে দিয়েছে তারা। আরবিসির অনুশীলন চলাকালীনই মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখী হয়েছিলেন চহেল।

আইপিএলে এই বোলারের সঙ্গে জুটি বাঁধা নিয়ে আশাবাদী যজুবেন্দ্র চহেল 2

সুন্দরকে নিয়ে বলতে গিয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আমাদের হাতে বিকল্প বেড়ে গিয়েছে ওয়াশিংটন সুন্দরের মত বোলারকে হাতে পাওয়ায়। শ্রীলঙ্কায় নিদাহাস ট্রফিতে সুন্দর পাওয়ার প্লেতে বল করেছিল আর আমি মাঝের ওভারগুলোয়। ফলে আমাদের মধ্যে কোনও সমস্যা হয় নি”। প্রসঙ্গত ব্যাঙ্গালুরুর ব্যাটিং শক্তি চিরকালই শক্তিশালী হলেও বোলারের সমস্যা তাদের সবসময়ই ভুগিয়েছে। আগের বারের আইপিএলেও ব্যাঙ্গালুরুর সমস্যা দেখা দিয়েছিল। তবে এবার চহেলের মতে সেই সমস্যা দেখা যাবে না। নিজেদের বোলিংয়ের সমস্যা নিয়ে বলতে চহেল সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, “ গতবারের আইপিএলে যেহেতু আমাকে পাওয়ার প্লে-তে দু’ওভার বল করতে হচ্ছি ফলে পরের দিকে আমার হাতে থাকত মাত্র দু ওভার। তবে এবার যেহেতু সুন্দর রয়েছে ফলে আমাদের বিকল্প বেড়েছে। দুজনের মধ্যে কোনও একজন পাওয়ার প্লে-তে দু ওভার বল করলেও পরের দিকে স্পিনারদের হাতে আরও বেশ কয়েকটা ওভার থেকে যাবে”। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে দেখা যায় রিস্ট স্পিনাররা ভালো বল করলেও অনেক সময় মার খেয়ে যান।

আইপিএলে এই বোলারের সঙ্গে জুটি বাঁধা নিয়ে আশাবাদী যজুবেন্দ্র চহেল 3

আর টি২০তে মার খাওয়ার আশঙ্কা আরও বেশ করেই থাকে। কিন্তু চহেলের মতে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে প্রথম দিকে মার খেলেও পরের দিকে ফিরে আসার রাস্তা খোলা থাকে। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, “ টি২০ মত ক্রিকেটে ব্যাটসম্যানরা যে কোনও সময় যে কোনও বল মেরে দিতে পার। যেমন শ্রীলঙ্কায় নিদাহাস ট্রফিতে শ্রীলঙ্কান ব্যাটসম্যানরা আমার দু’ওভারে ২৭ রান নিয়েছিল। সেই সময় আমি নিজেকেই বলেছিলাম ওটা ভুলে গিয়ে উইকেট তোলার দিকে জোর দাও”। যদিও চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে বিশেষ করে স্পিনারদের বল করা ভীষণই কঠিন। ফলে স্পিনারদের কাছে ওখানকার পিচে বল করা সবসময়ই বড় পরীক্ষা। যা নিয়ে চহেল বলেন, “চিন্নাস্বামীতে একবার বল করে এলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলতে নামলে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী থাকা যায়। এখানকার বাউন্ডারি ছোট হওয়ায় সবসময় স্পিনারদের চিন্তা থাকে। কিন্তু আমি প্রথম থেকেই চিন্নাস্বামীতে বল করে এসেছি বলে বিশ্বের যে কোনও মাঠেই বল করতে তৈরি থাকি, ভয় থাকে না”। তবে চহেলে পরের কথায় আইপিএল দলগুলির স্পিনাররা চিন্তায় পড়তে পারেন। এই স্পিন তারকা পরিস্কারই বলে দিচ্ছেন যে এবারের চিন্নাস্বামীর পিচ আগের চেয়েও অনেক বেশি পাটা। ফলে তা ব্যাটসম্যানের কাছে স্বর্গরাজ্যে পরিনত হয়েছে। তাই এবারে এই মাঠের পিচ বোলারদের ভালো মতই পরীক্ষা নেবে।

suvendu debnath

কবি, সাংবাদিক এবং গদ্যকার। শচীন তেন্ডুলকর, ব্রায়ান লারার অন্ধ ভক্ত। ক্রিকেটের...

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *