ক্রিকেট যদি জেন্ট্যালম্যানের খেলা হয়, তাহলে কিংস ইলেভেন পঞ্জাবের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান হাসিম আমলা নিঃসন্দেহে তার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর। হ্যাঁ, শুক্রবার বেঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে কিংস ইলেভেন পঞ্জাব এবং রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর ম্যাচে আমলার স্পোর্টসম্যানশিপে তাঁকে এই বিশেষ উপাধি দিতে বাধ্য হয়েছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা।

দলের তারকা ক্রিকেটারদের ছড়াছড়ি থাকলেও, এবারের আইপিএলে সেভাবে নিজেদের তুলে ধরতে পারেনি কিংস ইলেভেন পঞ্জাব। যার ফলে এবারে আইপিএলের প্লে অফে যাওয়ার রাস্তা তাদের কাছে রীতিমতো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্লে অফে জায়গা করে নিতে হলে লিগের বাকি ম্যাচগুলিতে ভালো ফলাফল করতে হবে তাদেরকে। সেটাকে মাথায় রেখে শুক্রবার বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামীতে ভালো পারফরম্যান্স করতে হতো প্রীতি জিন্টার দলের ক্রিকেটারদের। যদিও ঠিক সে জায়গায় ম্যাচের প্রথম ওভারের পাঁচ নম্বর বলে আউট হয়ে সাজঘরে ফিরে যান পঞ্জাবের সব চাইতে ধারাবাহিক ব্যাটসম্যান হাসিম আমলা। মাত্র ১ রান করে ক্রিজ ছেড়ে সাজঘরের রাস্তায় অগ্রসর হয়ে তিনি পঞ্জাবের সমর্থকদের হতাশ করলেও, ক্রিকেটের স্পিরিট বজায় রেখে মন জিতে নিলেন গোটা ক্রিকেট দুনিয়ার।

মন কষাকষি বিরাট-এবি’র! কারণটা জানলে অবশ্যই চমকে যাবেন

ঘটনাটি ঘটে শুক্রবারের ম্যাচের প্রথম ওভারের পাঁচ নম্বর বলে। মাত্র ১ রানের মাথায় অনিকেত চৌধুরির অফ স্ট্যাম্পের বাইরে দিকে যাওয়া বলকে কাট করতে গিয়ে আমলা তা উইকেটের পিছনে দাঁড়িয়ে থাকা আরসিবি উইকেটরক্ষক কেদার যাদবের হাতে জমা দিয়ে বসেন। কেদার যাদব থেকে শুরু করে আরসিবি বোলার অনিকেত চৌধুরি পর্যন্ত কেউই আমলার আউটের আপিল করেননি। এমনকি আম্পায়ার সি শামসুদ্দিন পর্যন্ত বুঝতে পারেননি যে কেদার যাদবের গ্লাভসে জমা হওয়া বলটি আদৌ আমলার ব্যাটে স্পর্শ করেছে কিনা? তাই সবাই নিশ্চুপ। কিন্তু নিপাট ভদ্র ক্রিকেটার হাসিম আমলা সোজা হাঁটা দিলেন সাজঘরের দিকে।

আইপিএল ২০১৭ঃ ট্রফি জয়ের রাস্তা থেকে ছিটকে গিয়েছে আরসিবি, তবুও পার্টি করছেন কোহলিরা !

মাঠে উপস্থিত আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা না করে তিনি নিজেই স্পোর্টসম্যানশিপ বজায় রেখে আরসিবি ক্রিকেটারদের মুখে হাঁসি ফুটিয়ে দিলেন। মাঠে আমলার এমন আচরণ দেখে সবাই তাজ্জব গোটা চিন্নাস্বামীর দর্শকরা। তাজ্জব গোটা ক্রিকেটবিশ্বও। পরবর্তী সময়ে রিপ্লেতে দেখা যায় অনিকেতের বল সত্যি আমলার ব্যাটের কানায় হালকাভাবে স্পর্শ করে জমা হয় কেদার যাদবের গ্ল্যাভসে। এর ফলে তিনি যে বড় মাপের ক্রিকেটারের পাশাপাশি একজন বড় মনের মানুষও, সেটা এদিনের ম্যাচে আবারও প্রমাণ করে দিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার এই দুঁদে ব্যাটসম্যানটি।

এবার দেখে নেওয়া যাক ক্রিকেটের স্পোর্টসম্যানশিপের সেই মুহুর্তটিঃ